কমছেই না চাল ও তেলের দাম


বাজারে ভোজ্য তেল আর চালের দাম কমছেই না। যদিও চালের দাম বাড়তি থাকায় ঘাটতি মেটাতে চাল আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে রাজস্ব বোর্ড। অপরদিকে বর্ধিত দামেই বিক্রি হচ্ছে ভোজ্য তেল। তবে আলুসহ কমেছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। সঙ্গে মাছের দামও কমেছে বেশ খানিকটা। গতকাল রাজধানীর বেশ কিছু বাজার সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
বাজারে এখনো প্রতি কেজি সুরু চাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। মাঝারি মানের চালের দাম ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা। মোটা চালের দাম ৪৬ থেকে ৫০ টাকা কেজি। যদিও গত বৃহস্পতিবার চালের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এছাড়াও কৃষকদের ন্যায্য নিশ্চিত করতে পেঁয়াজের শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। তবে এক দিনের ব্যবধানে শুক্রবারের বাজারে তার কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘শুল্ক কমলে সে চাল আগে বাজারে আসবে, তারপর দাম কমবে।’

এদিকে বাজারে বর্ধিত দামেই বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। গত এক মাসে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ৬ টাকা বেড়েছে। গত পাঁচ মাসে লিটার প্রতি বেড়েছে ২২ টাকা। প্রতি লিটার তেল কিনতে এখন ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ১১০ থেকে ১১২ টাকা।

একইভাবে পেঁয়াজের দামেও তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম আরো কম। পেঁয়াজ বিক্রেতা ফরিদ জানান, ভারতের পেঁয়াজের শুল্ক বসেছে, দু-একদিনের মধ্যেই দাম বাড়বে। তবে আজকের পেঁয়াজ গতকালকে কেনা বলে আগের দামেই বিক্রি করছি।’

এদিকে, বাজারে বেশ কিছু সবজি ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আলু, শালগম, মুলা, শিম, ফুলকপি ও পাতাকপি। যদিও গত সপ্তাহে এসব সবজি কিনতে আরো ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি গুনতে হয়েছিল। এছাড়া বেশিভাগ সবজি ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া শীত মৌসুমে নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় বাজারে দেশি মাছের আমদানি বেড়েছে। দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে। পাশাপাশি কমেছে চাষের মাছের দামও।

মাছ বিক্রেতারা জানান, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন মাছ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ ও সিলভার কাপ টাইপের মাছ ১২০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে মিলছে।

অন্যদিকে দেশি শিং, কৈ, গোচি মাছের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। এসব মাছের প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। তবে সামুদ্রিক মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান তারা।

কাওরান বাজারের পাইকারি আড়তগুলোতেও মাছের দাম পড়তি। আড়তদার মুজিবুল হক বলেন, ‘শীতের সময় খাল-বিল শুকিয়ে গেছে। এই কারণে দেশি মাছের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। ফলে অন্যান্য মাছের চাহিদা কম। সব মিলে গত সপ্তাহ থেকে মাছের দাম বেশ কমেছে।’

এই রকম আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.