টিকা ক্লিনিকে গেল কিভাবে?

রাজধানীর দক্ষিণখানের একটি ক্লিনিকে ‘মডার্নার করোনার টিকা’ দেয়ার অভিযোগে পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, ক্লিনিকটিতে ‘মডার্নার টিকা’ দেয়া হচ্ছিল। এ জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নিচ্ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি। অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।  প্রশ্ন হলো এই টিকা কীভাবে ক্লিনিকে গেল। পুলিশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বুধবার রাতে দক্ষিণখান এলাকায় ‘দরিদ্র পরিবার সেবা’ নামে একটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে বিজয়কৃষ্ণ তালুকদার নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এসময় ওই ক্লিনিক এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বাসায় অভিযান চালিয়ে মডার্না টিকার ২০টি খালি বাক্স ও ২টি টিকার অ্যাম্পুল উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ইয়াসিন আরাফাত এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়।
করোনার টিকা ক্লিনিকে কীভাবে গেল জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন মানবজমিনকে বলেন, পুলিশ ক্লিনিক থেকে কিছু টিকা উদ্ধার করার খবর শুনেছি। এটি সত্য কিনা মিথ্যা পুলিশ আগে বের করুক। বিষয়টি পুলিশ আগে দেখুক। নকল টিকাও তো হতে পারে। তারপর তদন্ত করা হবে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত দুটি অ্যাম্পুলের মধ্যে একটি খালি অবস্থায় ক্লিনিক থেকে এবং আরেকটি আংশিক পূর্ণ অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাসার ফ্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। টিকার একেকটি বক্সে সাধারণ টিকার ১০টি অ্যাম্পুল থাকে। সে হিসেবে উদ্ধারকৃত বাক্সে অন্তত ২০০ অ্যাম্পুল ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তি পুলিশের কাছে নিজেকে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এ ছাড়া সামপ্রতিক গণটিকা কর্মসূচির আওতায় তিনি উত্তরার একটি টিকাকেন্দ্রে টিকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ বলছে, বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, এই ক্লিনিকে অবৈধভাবে প্রতি ডোজ ৫০০ টাকার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার টিকা দেয়া হচ্ছে। খবর পেয়েই পুলিশ সদস্যরা ছদ্মবেশ ধারণ করে ওই ক্লিনিকে যান এবং টিকা কেনার কথা জানান। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে টাকার বিনিময়ে টিকা দিতে রাজি হলেও পরে মত বদলান। এরপর পুলিশের সন্দেহ হলে রাতে ওই ক্লিনিক ও তার বাসায় অভিযান চালানো হয় এবং টিকার বক্স ও অ্যাম্পুল উদ্ধারের কথা জানানো হয়। ইতিমধ্যে তারা এমন তিনজনের খবর পেয়েছেন যারা ওই ক্লিনিকে টাকার বিনিময়ে টিকা দিয়েছেন। ওই ক্লিনিক কোথা থেকে মডার্নার টিকা পেয়েছে, এ পর্যন্ত ক’জন টাকার বিনিময়ে টিকা নিয়েছেন, এর পেছনে আর কারা জড়িত তা জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা গণটিকা কর্মসূচির সময় সেখান থেকে টিকা অবৈধভাবে সরিয়ে এই ক্লিনিকে আনা হয়েছে। দক্ষিণখান থানা পুলিশ বিজয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় আদালতে। আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এই রকম আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *