ঢাকায় ‘স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা’র অভিযোগে এক তরুণ কারাগারে

বাংলাদেশে ঢাকায় একজন স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলায় অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেছে।

অভিযুক্ত তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

তবে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের একজন ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় মেয়েটি।

বিষয়টি সে তার মাকে ফোন করে জানায়।

এর দুই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত তরুণ ফোন করে ওই ছাত্রীর মা’কে জানায় যে, “মেয়েটি তার বাসায় গিয়েছিল। আকস্মিকভাবে সে অচেতন হয়ে পড়ায় ঢাকার বেসরকারি একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।”

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে মেয়েকে মৃত অবস্থায় পায়।

মেয়েটিকে ‘ধর্ষণের পর হত্যার’ অভিযোগ এনে করা মামলায় এমন বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়।

নিহতের মা বলেন, “সে আমাকে ফোন করে ২০ মিনিটের কথা বলে কোচিংয়ে পেপার্স আনার কথা বলে বের হয়। এরপর তার সাথে ফোনে হয়তো যোগাযোগ হয়েছে, তারপর তাকে সেখান থেকে নিয়ে গেছে।”

“বাসায় কোন লোকজন ছিল না। বাসা খালি ছিল। ছেলে নিজেই জবানবন্দিতে বলেছে যে তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তারা হয়তো জোরাজুরি করছিল। ও বাঁচতে চেয়েছিল। ওকে বাঁচতে দেয়া হয়নি। আমি এর বিচার চাই।”

খবর পেয়ে পুলিশ ওই বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়।

হাসপাতাল থেকেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ধর্ষণের শিকারের ব্যাপারে তখ্য প্রকাশে সতর্ক হতে বলছে পুলিশ
ছবির ক্যাপশান,ধর্ষণের শিকারের ব্যাপারে তখ্য প্রকাশে সতর্ক হতে বলছে পুলিশ

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও তিনজনকে আটক দেখানো হলেও মামলার এজাহারে তাদের কারও নাম নেই। তবে মামলায় একজন একজনকেই অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযুক্ত সেই তরুণকে গ্রেফতারের পরদিন আজ পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। আদালত জবানবন্দি নেয়ার পর অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন – তাই এ বিষয়ে খবর প্রচারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান।

“জিজ্ঞাসাবাদে ছেলেটি স্বীকার করে যে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের মেলামেশা হয়। মেলামেশার পরে ওভার ব্লিডিং হয়।সে সেন্সলেস হয়ে যায়। তাকে হাসপাতালে আনা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।”

” তবে তার বক্তব্য এখনও প্রমাণিত না। এগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে খতিয়ে দেখা হবে” বলেন পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান।

মেয়েটিকে যে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়েটির মা-বাবাকে জানান যে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের এক পর্যায়ে মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে অভিযুক্ত তরুণ। এবং সেখানেই মেয়েটি মারা যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে মেয়েটির ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, বিকৃত যৌনাচারের কারণে অতিরিক্ত রক্তরক্ষণে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। এই যৌনাচারে একজন নাকি একাধিক জড়িত সেটা বের করে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে তারা জানান।

তবে সুরতহাল রিপোর্টে মেয়েটির শরীরে অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

“ময়নাতদন্তে তার যোনিপথে ও পায়ুপথে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেই আঘাত থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এসব থেকে বিকৃত যৌনাচারের আলামত পাওয়া গিয়েছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে অভিযুক্ত একজন ছিলেন নাকি একাধিক। তার শরীরের আর কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই।”

“তার বয়স নির্ধারণের জন্য আমরা পরীক্ষা করছি। তাকে কোন চেতনানাশক বা বিষাক্ত কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা সেটা পরীক্ষা করতে তার রক্তের নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।”

অভিযুক্ত তরুণের পক্ষে কোন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়নি। অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মন্তব্য পাওয়া যায় নি।

এদিকে নিহত মেয়েটির ছবি, নাম -ঠিকানা প্রকাশ না করতে এবং তদন্তের আগেই কাউকে ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত না করতে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি ব্যক্তিগত এক বার্তায় আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের এআইজি সোহেল রানা।

এই রকম আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.