প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় থাকতে পারেননি বাফুফের সদস্যরা


দেশের ফুটবলের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপির সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নব-নির্বাচিত কমিটি বৃহস্পতিবার সভা করে। তবে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে মতিঝিলস্থ বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বসতে না দেয়ায় তারা ওয়াকআউট করেছেন। এদিন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকতার হোসেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সচিব মো. মাসুদ করিম, বাফুফের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি, সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ এমপি, আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাইম সোহাগ। তবে বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে একমাত্র মাহফুজা আক্তার কিরণ ছাড়া বাকিরা অনুপস্থিত ছিলেন বলে বিশ্বস্ত ওই সুত্রটি জানায়।

সভায় জাহিদ আহসান রাসেল বলেন,‘শুধুমাত্র ফুটবলের জন্য কক্সবাজারে আলাদা স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ (গতকাল) স্টেডিয়ামের ডিজাইন দেখেছেন। তিনি সামান্য কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সেই ভিত্তিতে আমরা কাজ শুরু করব। তবে ফুটবলের জন্য স্টেডিয়াম বলেই বাফুফেকে দায়িত্ব নিতে হবে বিষয়টি এমন নয়। এনএসসি’ই স্টেডিয়ামের যাবতীয় কাজের দেখভাল করবে।’

রাজধানীর আশেপাশে ফুটবলের জন্য একটি আলাদা স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য বাফুফের চাহিদা দীর্ঘদিনের। এ প্রসঙ্গে রাসেল বলেন, ‘বাফুফে আমাদের এই প্রস্তাাবনা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় জায়গা পেতে হবে। সেই জায়গার সন্ধান মিললে বিবেচনা করা যেতে পারে।’

২০১৯ সালের ক্যাসিনো কান্ডের পর বেশ ক’টি ক্লাব বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে মতিঝিল পাড়ার ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব একেবারে তালাবদ্ধ। সামনে ঘরোয়া ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ। বন্ধ থাকা ক্লাবগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল। ক্লাব বন্ধ থাকলে তাদের লিগে অংশ নেয়াটা কঠিন হবে। এ নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অন্যায় করেছে তাদের সাজা হচ্ছে। অন্যায়ের জন্য প্রতিষ্ঠান সাজা পেতে পারে না। ক্লাবগুলোর অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং সেগুলো বন্ধ হয়েছে (ক্যাসিনো কান্ডে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে। খেলাধূলার জন্য ক্লাব প্রয়োজন। আমরা দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেই আলোচনা করব যেন দ্রুত একটা কিছু করা যায়।’

জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিন বলেন, ‘আলোচনা অনেক ফলপ্রসূ হয়েছে। প্রায় সব বিষয়েই আমরা একমত হয়েছি।’ এদিকে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সভার সময়েই দেখা যায় একজন একজন করে বাফুফের নির্বাহী সদস্যরা বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে ভিন্ন খবর শোনা যায়। স্থান সংকুলনের দোহাই দিয়ে নির্বাহী সদস্যদের সভায় জায়গা দেয়া হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, ‘সদস্য ১৫ জন ছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটি অপরিপূর্ণ। আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেকে এই করোনার মধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন। অথচ আমাদেরকে মূল সভায় রাখা হয়নি। এমনটা জানলে এখানে আসতাম না।’

এই রকম আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *