লাশ দেখে চেনার উপায় নেই, সারা শরীরে খুনিদের নৃশংসতা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিখোঁজের দুইদিন পর রাজীব ধর নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের সারা শরীরে ছিল খুনিদের নৃশংসতা। লাশ দেখে চেনারও উপায় ছিল না।

খুনিরা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ফেলে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। লাশের বাম কান ও চোয়াল বিচ্ছিন্ন ছিল।

রোববার সকালে উপজেলা সদর ইউনিয়নের সাফাইশ্রী এলাকার শ্রী শ্রী শ্মশান কালীমন্দিরের পশ্চিম পাশে কলাবাগানের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রাজীব ধর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বরাইদ গ্রামের সুভাস ধরের একমাত্র ছেলে। রাজীব ধর ঢাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। চার থেকে পাঁচ মাস ধরে তার মাকে নিয়ে সাফাইশ্রী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

রাজীব ধরের মা প্রতিভা ধর জানান, শুক্রবার রাতে তার ছেলের পরিচিত কেউ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর রাতে বাড়ি ফেরেনি রাজীব। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল। পরে শনিবার দিনভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও রাজীবের কোনো সন্ধান মেলেনি।

কাপাসিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আফজাল হোসাইন জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর কাছাকাছি কলাবাগানের ভেতরে লাশটি দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে লাশটি উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

কাপাসিয়া থানার ওসি মো. আলম চাঁদ জানান, নিহত রাজীবের মাথায় আট থেকে ১০টি গুরুতর জখম রয়েছে। এছাড়া বাম হাতের কবজির নিচে গভীর জখমসহ বাম কান ও চোয়াল বিচ্ছিন্ন ছিল। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

রাজীবের চাচা বাসুদেব ধর দাবি করেন, রাজীব খুবই নিরীহ ছেলে ছিল। তার কোনো শত্রু ছিল না।

কান্নায় ভেঙে পড়ে রাজীব ধরের মা প্রতিভা ধর বলেন, আমার একমাত্র ছেলে রাজীবকে যারা মারছে, তারা মানুষ নয়। তারা পশু। খুনিদের যেন ফাঁসি হয়।

ওসি মো. আলম চাঁদ বলেন, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা খুব দ্রুতই ধরা পড়বে আশা করছি। হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে র‌্যাব, সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও পিবিআইয়ের সদস্যরা ছায়া তদন্ত করছেন।

এই রকম আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.