সাধারণ থেকে বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তির তালিকায় তারা

নিজ কর্মগুণে এবং চেষ্টায় সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিতে হয়। কেউ কেউ আছেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে গিয়েছিলেন পড়াশোনায় মনোযোগ না থাকায়। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং ব্যয়বহুল সফটওয়্যার মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে ফেলেন তিনি।

টানা ১৩ বছর যাবত পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তির তালিকায় প্রথম ছিলেন তিনি। বলছিলাম বিল গেটসের কথা। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের তালিকায় প্রকাশ করে ফোর্বস। এসব ব্যক্তিদের গল্প পিছিয়ে পড়া মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করে।

এভাবেই ২০০৯ সাল থেকে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে আসছে ফোর্বস ম্যাগাজিন। ফোর্বস যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত একটি ম্যাগাজিন প্রকাশনা সংস্থা। বিশ্বে তাদের প্রভাব, সম্পদ ও ক্ষমতার প্রভাববলয়ের নিরিখে ফোর্বসের তালিকায় জায়গা দেয়া হয়েছে তাদের।

শেষ তালিকা প্রকাশ হয়েছিল ২০১৬ সালে। ২০২০ এর মে মাসেই এই তালিকা আবার প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকার প্রথম স্থানে আছেন চীনের বর্তমান রাষ্ট্রপতি শি জিন পিং। জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করেছে। ৭৪০ কোটি মানুষের মধ্যে এই তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিবিদরা। এই তালিকায় থাকেন মোট ৭৫ জন ব্যক্তি। এক্ষেত্রে ব্যক্তি যেকোনো দেশের মানুষই থাকতে পারেন। নেই নারী পুরুষ ভেদাভেদ।

সম্প্রতি বিশ্বের সবথেকে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বস। এ তালিকার শীর্ষে থাকা ১০ ব্যক্তির মধ্যে আজ থাকছে বাকি পাঁচ জন ব্যক্তি নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সাতরঙের আয়োজনের ২য় পর্ব-

পোপ ফ্রান্সিস

পোপ ফ্রান্সিস

পোপ ফ্রান্সিস

তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে আছেন আর্জেন্টিনার নাগরিক ভ্যাটিক্যান সিটির পোপ ফ্রান্সিস। তিনি রোমান ক্যাথলিক চার্চের পোপ ও খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু। বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক চার্চের প্রধান তিনি। পোপ ফ্রান্সিস এমন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব যিনি উদারনৈতিক বিশ্বচেতনার অনুসারী। তার মূল্যবোধ পৃথিবীর সব মানুষকে যুক্ত করে এবং কাউকেই বাদ দেয় না। ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১২০ কোটি ক্যাথলিক খ্রিস্টবিশ্বাসীর সর্বোচ্চ ধর্মগুরু বহুমাত্রিক পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে আসছেন। তিনি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ তথা দক্ষিণ গোলার্ধের প্রথম পোপ এবং প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছরের মধ্যে প্রথম অ-ইউরোপীয় পোপ। পোপ ফ্রান্সিস বলেন, প্রভুর আজ্ঞা অনুধ্যান করে তোমরা দেখবে। যা পড় তা যেন বিশ্বাস কর। যা বিশ্বাস কর তা শিক্ষা  দাও এবং যা শিক্ষা দাও তা অনুশীলন কর।

বিল গেটস

বিল গেটস

বিল গেটস

এবারের তালিকায় ৭ম স্থানে আছেন টানা ১৩ বছর প্রথম স্থানে থাকা বিল গেটস। বাবা-মা চেয়েছিলেন বিল গেটস আইনজীবী হোক। কিন্তু বিল গেটস সারা দিন পড়ে থাকতেন কম্পিউটার নিয়ে। স্কুলেই প্রোগ্রামিংয়ে হাতেখড়ি তার। নিজে নিজেই লিখে ফেলেন গেমিং প্রোগ্রামিং। স্কুল থেকে বহিষ্কার হন নীতিবিরুদ্ধ অপারেটিং সিস্টেম চালানোর জন্য। উল্টো হার্ভার্ডে এসে প্রোগ্রামিংয়ে আরও মনোযোগী হন তিনি। স্যাট পরীক্ষায় ১৬০০ নম্বরে ১৫৯০ পেয়েও পড়াশোনা ছেড়ে দেন তিনি। বন্ধু পল অ্যালেনকে নিয়ে গড়ে তোলেন মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এনে বদলে দিলেন পুরো কম্পিউটার জগৎ। মাইক্রোসফট হয়ে উঠল বিশ্বের শীর্ষ টেক কোম্পানির একটি। সেই সাফল্যেই এলো হাজার হাজার কোটি টাকা। টানা প্রায় দেড় দশক বিশ্বের শীর্ষ ধনীর আসনে ছিলেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। মানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে যাচ্ছেন এই ধনকুবের। তবু সম্পদ বাড়ছেই। তাঁর মোট সম্পত্তি ৯৮  বিলিয়ন ডলার।

মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ

মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ

এরপরের অবস্থানেই আছেন মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ। তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ, উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পৃথিবীর সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি আল সৌদ রাজদরবারের প্রধান এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন বিষয়ক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। ২০১৭ সালের শুরুতে পরিবারের আর ১০টা প্রিন্সের মতো ছিল তার অবস্থান। তবে ক্যালেন্ডারের পাতা যত উল্টাল, তার অবস্থান ততই বদলে যেতে থাকল।

ধীরে ধীরে ক্ষমতাবান হয়ে উঠলেন তিনি। একের পর এক ঘটনায় উঠে এলো তার নাম। তিন বছর ধরে নানা খেলা দেখিয়ে আলোচিত ব্যক্তি হিসেবে নাম লেখান তিনি। সৎভাই আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর সৌদির সিংহাসনে বসেন বাদশাহ সালমান। প্রথমে ভাতিজা মোহাম্মদ বিন নায়েফকে ক্রাউন প্রিন্স অর্থাৎ রাজবংশের পরবর্তী উত্তরসূরি ঘোষণা করেন। আর ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে করেন ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স। অনেকে বলেন, ভাতিজাকে সামনে রেখে আসলে ছেলেকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করাই ছিল তার লক্ষ্য।

নরেন্দ্র মোদি

নরেন্দ্র মোদি

নরেন্দ্র মোদি

ভারতের গুজরাট রাজ্যের এক রেলস্টেশনে চা বিক্রি করতেন বালক নরেন্দ্র মোদি। তারপর এক সময় নাম লেখালেন রাজনীতিতে। তিনি ভারতের পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। তিনি বিজেপি দলের মাধ্যমে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসেন। বর্তমানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের ক্ষমতাশালী আলোচিত ব্যক্তির তালিকায় নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন মোদি। বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। পেছনে ফেলেছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব নেতৃত্বকে।

মোদির জনপ্রিয়তা নিয়ে পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘ভারতের কোটি কোটি মানুষের কাছে আজও সমান জনপ্রিয় মোদি। ২০১৬ সালে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে দুর্নীতিমুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিয়ে আলোড়ন ফেলেছিলেন তিনি।’ পত্রিকায় আরও বলা হয়েছে, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজেকে বিশ্বমানের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন তিনি। জলবায়ু সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে  আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নজর কেড়েছেন মোদি।

ল্যারি পেজ

ল্যারি পেজ

ল্যারি পেজ

দশম অবস্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার বিজ্ঞানী গুগলের প্রতিষ্ঠাতা এবং ইন্টারনেট উদ্যোক্তা অ্যালফাবেটের প্রেসিডেন্ট ল্যারি পেজ। ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্মগ্রহণ করেন লরেন্স অ্যাডওয়ার্ড পেজ যিনি ল্যারি পেজ নামেই পরিচিত। তিনি ছিলেন বাবা কার্ল ভিক্টর পেজ এবং মা গ্লোরিয়া পেজের দ্বিতীয় সন্তান। বাবা ছিলেন মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অধ্যাপক। গুগল সার্চ ইঞ্জিন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুগল আমাদের যতটা কাছে থাকে এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ততটাই থাকেন পর্দার আড়ালে। তাই তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায় না। বড় কোম্পানির সিইওরা যেখানে সুপারস্টারদের মতো চলাফেরা করেন, ল্যারি পেজ সেখানে ব্যতিক্রম। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সবার থেকে দূরেই রাখেন। মিডিয়াতেও তাকে খুব বেশি দেখা যায় না। ২০০৭ সালে বিয়ে করেন রিসার্চ সায়েন্টিস্ট লুসিন্ডা সাউথওর্থকে। স্ত্রী এবং দুই বাচ্চার সংসার  নিয়ে থাকেন পালো আল্টোতে।

এই রকম আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *